Select Menu
  • Home
  • Blog Design
  • Widgets
    • HTML Editor
    • HTML Parser
    • Counter Tool
    • Css Minifier
    • Live Viewer
    • Color Code
  • SEO
  • Online Earning
  • Technology
  • About Us
  • Contact Us
  • Download
  • About Us
  • Contact Us
  • Privacy
  • Sitemap
  • Download
Shahoreyar Mostofa
  • Home
  • Blog Design
  • Widgets
  • SEO
  • Android
    • Adroid Tips
    • Android Apps
    • Android News
  • Earning
  • Error404
বাংলা গল্প
Showing posts with label বাংলা গল্প. Show all posts
Showing posts with label বাংলা গল্প. Show all posts

Friday, 25 December 2015

Mostofa

সফটওয়্যার যখন আবহাওয়া প্রতিবেদক

  Mostofa      Friday, 25 December 2015     অন্যন্য , বাংলা গল্প , ভিন্ন স্বাদের খবর      No comments   
মাইক্রোসফটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সফটওয়্যারচীনের সাংহাইয়ের ড্রাগন টিভি মাইক্রোসফটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন একটি সফটওয়্যারকে আবহাওয়া প্রতিবেদকে দায়িত্ব দিয়েছে। সকালে সরাসরি সম্প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে সরাসরি আবহাওয়ার প্রতিবেদন দেখাচ্ছে এই রোবটটি। বার্তা সংস্থা আইএএনএসের একটি খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার জিয়াওআইস নামের এই রোবটটি তার প্রথম অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে।

সিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিয়াওআইস মূলত মাইক্রোসফটের তৈরি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমান রোবট যা স্মার্ট ক্লাউড ও বিগ ডেটা বিশ্লেষণ করে আবহাওয়ার তথ্য তুলে ধরে। প্রথম দুই দিনের কাজে কৃত্রিম কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে আবহাওয়ার খবর শুনিয়ে দর্শককে মুগ্ধ করেছে এ সফটওয়্যারটি।

মাইক্রোসফটের দাবি, জিয়াওআইসে কৃত্রিম বুদ্ধিমান টেক্সট টু স্পিচ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে এটি নিমেষে মন্তব্য করতে পারে।

অনেকে আশঙ্কা করছেন, টিভি উপস্থাপক ও আবহাওয়া প্রতিবেদকদের চাকরি হুমকির মুখে ফেলতে পারে মাইক্রোসফটের এই সফটওয়্যার।
Read More
Mostofa

গল্প: শীত এলেই আসে লোকটা

  Mostofa      Friday, 25 December 2015     অন্যন্য , বাংলা গল্প , ভিন্ন স্বাদের খবর      No comments   
অলংকরণ: তুলিশীত এলেই অরণ্যদের গ্রামে আসে লোকটা। এই বাড়ি ওই বাড়ি ঘোরে। উঠোনে বসে কী যেন ভাবে। ঘরের দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। বড়রা তাকে দেখলেই তাড়া করে। ছোটরা পিছু নেয়। সেদিন বড়দের তাড়া খেয়ে লোকটা অরণ্যদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তা ধরে। হাঁটে আর বলে, ‘হোয়াট আ শেইম, শে-ই-ম, শে-ই-ম-ম!’ পেছনে ছোটা দস্যিরাও গলা উঁচিয়ে বলে, ‘শেইম, শেইম, শেইম-ম-ম!’ আস্তে আস্তে দস্যিদের দল বড় হয়। একজন আঙুলের ইশারায় বলে, ‘ওরে ইংরেজি পাগলা যায় রে; ইংরেজি পাগলা যায়!’
লোকটা কথা বলে না। চুপচাপ হাঁটে। একটু পরপর মাথা চুলকায় আর মাথা থেকে খস করে টেনে চুল তুলে ফুঁ দিয়ে তা বাতাসে উড়িয়ে দেয়। তার অনুকরণ করে পেছনে ছোটা দস্যিরাও। মাথার চুল টেনে তোলার অভিনয় করে। সবাই পারে না। দলের দু-একজনের মাথায় চুলই নেই। তারাও চুল টেনে বাতাসে উড়িয়ে দেওয়ার অভিনয় করে। এই করতে গিয়ে অনেকটা পিছিয়ে পড়ে। একটু দৌড়ে ফের লোকটার কাছাকাছি যায়। হাঁটায় তাল মেলায়। একসময় তারা গ্রামের শেষ মাথায় চলে যায়। সামনে নদী। লোকটা ঘটঘট করে নদীতে নেমে পড়ে। হাঁটুপানি মাড়িয়ে বুকপানিতে গিয়ে ডুব দেয়। একের পর এক ডুবাতে থাকে। আর বলে, ‘হো-য়া-ট-ট-ট আ হ-টটট!’ ছোটরা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে চোখ বড় করে লোকটার কাণ্ড দেখে। সবার গায়ে গরম জামা; তবু শীতের দাপটে তাদের কাঁপাকাঁপি অবস্থা। অথচ লোকটার গরম লাগে।
কেউ কেউ আঙুলের করে ডুবের হিসাব রাখে। লোকটা বিরতিহীন ডুব দেয়। গুনতে গিয়ে হিসাবে গরমিল হয়ে যায়।
একসময় লোকটা পানি ছেড়ে ওপরে উঠে। সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকে।
ছোটরা বলে, ‘কী করছ ইংরেজি মিয়া?’ লোকটা কথা বলে না। অরণ্য বলে, ‘হোয়াট আর ইউ ডুইং ইংলিশ ম্যান?’ লোকটা সূর্যের দিকে তাকিয়েই জবাব দেয়, ‘আই ইট সানশাইন।’ ছোটরাও তার অনুকরণে সূর্যের দিকে তাকিয়ে হাঁ করে রোদ খেতে চায়। কিন্তু পারে না। লোকটা কিছুক্ষণ সানশাইন খেয়ে ফের গ্রামের পথ ধরে। পেছনে দস্যিরাও। হঠাৎ সে পেছনে ফিরে বলে, ‘মে আই হ্যাভ সাম ফুড?’
দস্যিরা একে অন্যের দিকে তাকায়। কী খাবার দেওয়া যায় লোকটাকে! অরণ্যদের গ্রামে শীতে ভালো সবজি হয়। তাই তারা সবজির কথা ভাবে। বলে, ‘ডু ইউ লাইক ভেজ?’ লোকটা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দেয়। সবাই হামলে পড়ে সবজিখেতে। যে যার মতো করে যা পারে, তা এনে লোকটার সামনে হাজির করে। লোকটা বলে, ‘ড্রিংক?’
ছোটরা ভাবে, সাধারণ পানিতে তো এ লোকের চলবে না। কারণ, সে তো এতক্ষণ পানিতেই ছিল। ‘ওকে, ফলো মি।’ বলে অরণ্য হাঁটা ধরে। তার পেছনে সবাই। ছোটদের কারও মুখে কথা নেই। সবাই অবাক হয়ে লোকটার হাঁটা দেখে। একে অন্যকে ঠেলে লোকটার কাছে ঘেঁষতে চেষ্টা করে। মুখ বাড়িয়ে তাকে দেখতে চায়। লোকটা কারও দিকে তাকায় না। থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পরে খালি পা আর উদোম গায়ে হাঁটতেই থাকে। সামনে অরণ্য আর পেছনে দস্যি ছেলের দল।
বাড়ির বউ-ঝিয়েরা ছোটদের ডাকতে রাস্তায় চলে আসে। কিন্তু সেদিকে মন নেই দস্যিদের। অরণ্যের পিছু হেঁটে তারা গিয়ে ওঠে পুরোনো একটা জনশূন্য বাড়িতে।
সেই বাড়ির চারপাশ খেজুরগাছে ঘেরা। বিকেলে গাছি এসে তাতে কলসি বসায়। রাতে রস জমে কলসিতে। সকালের দিকে রস পড়া কমে আসে। তাই কলসি খুলে নিয়ে যায় গাছি। তবু জিরিয়ে এক-দু ফোঁটা করে রস পড়ে। ছোটরা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে হাঁ করে জিব বের করে রাখে। মৌমাছি এসে ভাগ বসায় সেই রসে। অরণ্য একটা খেজুরগাছের নিচে হাঁ করে জিব বের করে লোকটাকে দেখিয়ে বলে, ‘প্লিজ, ট্রাই ইট।’ লোকটাও অরণ্যের মতো গাছের নিচে দাঁড়িয়ে হাঁ করে জিব বের করে রাখে। একসময় তার জিবে টুক করে এক ফোঁটা রস পড়ে। সে গিলে আর বলে, ‘হোয়াট আ নাইস ড্রিংক!’
দস্যি বাহিনী এবার একটা তৃপ্তির নিশ্বাস নেয়। লোকটা এক ফোঁটা রস খেয়েই ‘নাউ আই নিড টু গো’ বলে নদীর দিকে হাঁটা ধরে। ছোটরা এবার আর তার পিছু নেয় না। একে অন্যের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে। কেউ কিছু বলে না। লোকটা হাঁটতে থাকে। একসময় হাওয়ায় মিলে যায়!
পরদিন আবারও গ্রামে দেখা যায় লোকটাকে। কারও তাড়া খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় হাঁটে। ছোটরা আর লোকটার পিছু নেয় না। তারা বড়দের কাছে জানতে পারে, একসময় এই গ্রামেই ছিল তার বাড়ি। বংশটাও ছিল ভালো। কোনো এক শীতে নদীতে গিয়ে আর ফেরেনি তার ছোট্ট মেয়েটা। অনেক খুঁজেও তাকে পাওয়া যায় না। সেদিনই লোকটা বাড়ি ছাড়ে। মেয়ের খোঁজে নদীর পাড় ধরে হাঁটে। গ্রামে গ্রামে ঘুরে। মাঝখানে কয়েক বছর বিদেশে কাটিয়ে দেশে ফেরে। তত দিনে নদীভাঙনে পড়ে তার বাড়িটাও হারিয়ে যায়। বাড়ির লোকেরা চলে যায় শহরে। লোকটাকেও সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শীত এলে সে আর শহরে থাকতে পারে না। মেয়ের খোঁজে গ্রামে আসে। খালি গায়ে বাড়ি বাড়ি হাঁটে। নদীতে ডুব দিয়ে মেয়েকে খোঁজে। খুঁজতেই থাকে!
Read More

Tuesday, 15 December 2015

Unknown

আমরা কি স্বাধীনতার মর্যদা দিতে পারছি ???

  Unknown      Tuesday, 15 December 2015     অন্যন্য , বাংলা কবিতা , বাংলা গল্প , ভিন্ন স্বাদের খবর      No comments   
১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধে লাখো মানুষ নিজের প্রান হারিয়ে লাখো মা বোন তাদের ইজ্জত হারিয়ে যে সোনার বাংলাদেশটি আমাদের দিয়েছিল
আমরা কি বাংলাদেশের স্বাধীনতার মর্যদা দিতে পারছি ???
আমরা কি সেই শহীদদের সন্মান করতে পারছি ???
আমরা কি ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ ও ১৬ই ডেসিম্বর ছাড়া তাদের স্বরণ করি ?? তাদের কি জন্য এই তিন দিন ছাড়া দোয়া করি ??

সব প্রশ্নের একটাই উত্তর না না না । আমরা পারছি না ।
ভাবছেন আমরা তো প্রতি বছর খুব ধুম ধাম করে এই তিন দিন পালন করি তাহলে সন্মান দিলাম না কোথায় ।

একবার নিজের চোখটা খুলে ভাল করে দেখেন
গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে নানা স্থানে চলছে বিজয় মেলা । মেলাতে চলছে রমরমা যাত্রা, জুয়া সহ নানা অসাধু কাজ । আমরা কি এসবের মাধ্যমেই শহীদদের সন্মান জানাচ্ছি ......................

আজ ১৫ ডিসেম্বর রাত ৮টা থেকে শুরু হয়েছে গান বাজনা । মনে করছেন যেহেতু বিজয়ের মাস সেহেতু দেশাত্ববোধক গান হবে কিন্তু কিছু স্থান ছাড়া কোথাও চলছেনা দেশাত্ববোধক গান । চলছে সানি লিওনি, পিট বুল সহ নানা হিন্দি ও ইংলিশ গান ।

যাক গানের কথা বাদই দিলাম শহীদ মিনারের কথায় আসি সারা বছর শহীদ মিনারে প্রেমিক প্রেমিকারা আড্ডা দেয় আর বছরের এই তিন দিনের জন্য সেগুলো পরিষ্কার করা হয় । আমরা যদি শহীদদের সন্মান দিতাম তাহলে সারা বছর শহীদ মিনার পরিষ্কার রাখতাম ।

আর এক দল লোকের কথা বাকিই থাকল । সারা বছর দেশের চিন্তা নেই দেশে কি হচ্ছে খোজ খবর নেয়া নেই ফেসবুকের প্রপাইল পিক বা কভার ফটোতে বাংলাদেশের পতাকা দেয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরে । আর ঐ তিন দিন গুলোতে সবার আগে ঘুম থেকে উঠেই চলে যায় ফুল দিতে ............

আরে ভাই ফুল দিলেই কি শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে ........................

তহলে এখন আপনিই বলুন
আমরা কি বাংলাদেশের স্বধীনতার মর্যদা দিতে পারছি ???
আমরা কি সেই শহীদদের সন্মান করতে পারছি ???
আমরা কি ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ ও ১৬ই ডেসিম্বর ছাড়া তাদের স্বরণ করি ?? তাদের কি জন্য এই তিন দিন ছাড়া দোয়া করি ??
সবার মন্তব্য আশা করি ।
Read More

Sunday, 29 November 2015

Unknown

সিনেমা বানাবেন প্রসূন আজাদ

  Unknown      Sunday, 29 November 2015     অন্যন্য , বাংলা গল্প , বিনেদন , ভিন্ন স্বাদের খবর      No comments   
প্রসূন আজাদ             ShahoreyarMostofa.Blogger.Com প্রসূন আজাদের অভিনয়জীবন খুব বেশি দিনের নয়, মাত্র তিন বছর। ২০১২ সালের লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার পরই অভিনয়ে নাম লেখান তিনি। এই তিন বছরের অভিনয়জীবনে বেশ কয়েকটি খণ্ড ও টেলিছবিতে অভিনয় করেছেন প্রসূন। তাঁকে দেখা গেছে কয়েকটি সিনেমায়ও। এবার নিজেই সিনেমা বানানোর ঘোষণা দিলেন নতুন প্রজন্মের এই অভিনেত্রী। ছবিটি পরিচালনার পাশাপাশি এতে অভিনয়ও করবেন তিনি। আজ রোববার প্রসূন বলেন, ‘নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ভাবনাটা আগে থেকেই ছিল। কিন্তু সাহস ছিল না। সেই সাহস এখন পেয়েছি। তাই সিনেমা নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেললাম।’
সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে একজন নির্মাতার প্রস্তুতির দরকার পড়ে। আপনার সেই প্রস্তুতি কেমন জানতে চাইলে প্রসূন বলেন, ‘আমি পুরোপুরি প্রস্তুত। এত দিন পর্যন্ত নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি সেটাই নির্মাণের ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। আমি মনে করি, যে পর্দার সামনে কাজ করতে পারে সে পেছনে কাজও করতে পারবে।’
তাঁর প্রথম ছবিটি কেমন হবে জানতে চাইলে প্রসূন বলেন, ‘এখনো নাম ঠিক করিনি। তবে গল্প যেভাবে আছে তাতে এটুকু বলতে পারি, আমার প্রথম পরিচালিত ছবিটি ‘সুপার আর্টিস্টিক’ ও ‘সুপার কমার্শিয়াল’ হবে। বর্তমানে গল্প লেখার কাজ চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ১৫ ডিসেম্বর থেকে প্রথম ছবির শুটিং শুরু করব। আমার সিনেমা কিন্তু হলে মুক্তি দেব না।’
তাহলে আপনার ছবিটি দর্শকেরা দেখতে পাবেন কীভাবে? ‘আমি ইউটিউবে ছাড়ব। দুই ঘণ্টার এই ছবিটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে দেখতে হবে। বললেন প্রসূন আজাদ।
প্রসূন আজাদের প্রথম ছবিটির গল্প লিখছেন আহাদুর রহমান।
Read More

Friday, 13 November 2015

Unknown

(বাংলা গল্প) বকুল

  Unknown      Friday, 13 November 2015     বাংলা গল্প      1 comment   
বকুল আমার লেখা প্রথম গল্প । আশা করি গল্পটা সবার ভাল লাগবে । 
ধন্যবাদ ।

বকুল
    Shahoreyar Mostofa

শ্রেয়া রোজ স্কুলে যাওয়ার সময় দেখে প্রায় তার সম-বয়সী একটা
মেয়ে স্কুল গেটের একটু দূরেই কয়েকটা ফুলের মালা হাতে নিয়ে দাড়িয়ে

আছে ।শ্রেয়া প্রতিদিন মেয়েটাকে দেখলেও সে ভাবে খেয়াল করেনি ।
কিন্তু আজ খেয়াল না করে পারল না । আজ সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে তাও মেয়েটা সেখানেই দাড়িয়ে আছে আর প্রতিদিনের মতই হাতে
কিছু ফুলের মালা । আশে পাশে কোথাও কোন মানুষ জন নেই । শ্রেয়া
রিক্সা ভাড়া দিয়ে ছাতাটা মেলিয়ে আস্তে আস্তে মেয়েটার দিকে এগিয়ে
যায় ।
মেয়েটাকে জিজ্ঞাস করে তুমি এখানে এভাবে দাড়িয়ে আছো কেন ??
মাথায় বৃষ্টি পরছে তোমার তো অসুখ করবে ?? আপা আমাগোরো মাথায় একটু খানি বৃষ্টি পড়লে আমাদের অসুখ করে
না । মেয়েটির কথা শুনে আবাক হয়ে গেল শ্রেয়া । একটু পর শ্রেয়া বলল
তুমি লেখা পড়া বাদ দিয়ে ফুল বিক্রি করছ কেন ….?
ক্লাস ফোর পাশ করে ফাইবে উঠচি । অতো লেখা পড়া কইরা কি
করমু । গরিবদের অতো লেখা পড়া করার দরকার হয় না । তয় আমার
পড়বার ইচ্ছা হয় কিন্তু অতো টেকা পয়সা কই পামু ? মায়ের অসুখ বাবায় ছোট কালে ছাইরা চলে গেছে । ফুল না বেচলে খামু কি ?
তিথি ঘড়ি দেখল সাড়ে ৯ টা বাজে । বৃষ্টি ও থেমে গেছে । শ্রেয়া বলল
আচ্ছা তুমি রোজ ফুল বিক্রি করে কত টাকা পাও?
মালা প্রতি কেউ দেয় ৫টাকা আবার কেউ ১০ টেকা কেউ কেউ ২০
টেকাও দেয় । মোট হিসেব করলে ৫০-৬০ টাকা হয় । মায়ের ওষধ কিনে
যা বাচে তা দিয়ে চাল ডাল কিনে বাড়ি যাই । তারপর রান্না করে নিজে খাই, মায়েরে খাওয়াই ।
শ্রেয়া ১০ টাকা দিয়ে বলল তোমার মায়ের জন্য ওষধ কিনে নিও ।
মেয়েটি বলল আমি ভিক্ষা নেই না । আপনে যদি একটা ফুল নেন তাহলে
আমি টেকা নিবার পারি । শ্রেয়া বাধ্য হয়ে ফুলটা নিল এবং বলল আমার
ক্লাস শুরু হবে এখন । তুমি ১টা পর্য়ন্ত এখানে থাকো ? মেয়েটি বলল
ফুল বেচা শেষ না হলে থাকব । শ্রেয়া স্কুল ছুটির পর বাহিরে গিয়ে দেখল মেয়েটা ওখানেই দাড়িয়ে আছে
। শ্রেয়া কে এদিকে আসতে দেখতেই বলল জানেন আপা আপনে যাওনের
পর এক স্যার এসে আপনার মত সব শুনে ৩টা মালা ৩শ টেকা দিয়ে
কিনে নিল । আমি বললাম স্যার এই তিনটা মালার দাম এত নয় । স্যারটা
কি কয় জানেন আপা ? স্যার কয় ফুলের কোন মূল্য হয় না । ফুল
অমুল্য জিনিষ । এই বলেই সাহেবটা গাড়ি নিয়ে চলে গেল । তাই ভাবলাম এখানে দাড়িয়ে থাইকা আর কি কাম তার থেকে ডাক্তারের
কাছে থাইকা ঔষধ নিয়া বাড়ি গিয়া রান্না করি । শ্রেয়া অবাক হয়ে বলল
তাহলে তুমি কি বাড়ি থেকে রান্না করে আবার এসেছ ??
হ, মায়ে অনেক দিন হইল গোসত খাইবার চাইছিল টেকার জন্য
খাওয়াইতে পারি নাই ।আজ যখন এত টাকা পাইলাম তখন মায়েরে এক
সের গোসত কিনে খাওয়াইয়া আইলাম । শ্রেয়া বলল তুমি আবার এসেছ ভাল করেছ, তুমি যদি লেখা পড়া করতে
চাও তাহলে আমি ব্যবস্থা করতে পারি ।
মেয়েটি বলল আগে মায়ের অসুখ ভাল হউক । একথা সেকথা বলতে বলতে
মেয়েটা শ্রেয়ার সাথে তার বাড়ি পর্যন্ত চলে এলো । শ্রেয়া তার মায়ের
সাথে মেয়েটার কথা বলাল মেয়েটার সব কথা বিস্তারিত বলল । শ্রেয়ার
মা রাবেয়া বেগম শ্রেয়ার কথা শুনে খুব খুশি হলেন । রাবেয়া বেগম বলল তোমরা হাত মুখ ধুয়ে এসো খাবে । শ্রেয়া মাথা নেড়ে বলল আচ্ছা । শ্রেয়া বলর সেই কখন থেকে তোমার সাথে বকবক বকবক করে চলছি
তোমার নামটাই তো জানা হল না তোমার নাম কি ?
তেয়েটি বলল আমার নাম বকুল ।
বাহ, খুব সুন্দর নামতো । চলো আগে খেয়ে নিই তারপর গল্প করা
যাবে । বকুল প্রথমে খেতেই চায় নি কারন সেতো খেয়েই এসেছে ।
শ্রেয়ার জেদে তাকে খেতেই হল । খাওয়ার পর পরই শ্রেয়া আবার তার সাথে গল্প শুরু করল । রাবেয়া বেগম তাকে নতুন একটা জামা পড়তে
দিলেন । কখন যে ঘড়ির কাটা ঘুড়তে ঘুড়তে ৫টা বেজে গেছে ওরা কেউ
খেয়ালই করেনি । বকুল বলল এখন তাহলে আমি যাই ।
দারাও তোমার সাথে আমরাও যাবো তোমার মাকে দেখতে যাব বলল
রাবেয়া বেগম । শ্রেয়া, শ্রেয়ার রাবেয়া বেগম, শ্রেয়ার ছোট ভাই তপু ও বকুল সবাই
মিলে রিক্সা নিয়ে বকুলদের বস্তিতে গেলেন । রাবেয়া বেগম বকুলের
মাকে দেখে আসার সময় তার হাতে ৫০০ টাকা দিলেন । এমনি করে বেশ
কিছুদিন কেটে গেল শ্রেয়া ও বকুলের বন্ধুত্ব হয়ে গেল বকুলের মা সুস্থ
হলে বকুলকে শ্রেয়ার সাথে স্কুলে ভর্তি করে দিলেন ।
বকুল একদিন স্কুল তেকে এসে দেখে তার মাকে ঘিরে বস্তির কয়েক জন মহিলা দাড়িয়ে আছে । তারা বলল বকুলের মাকে হাসপাতালে নিয়ে
যেতে । শ্রেয়াকে খবর দেয়া হল সে ও তার মা হাসপাতালে ছুটে আসল
কিন্তু তার আগেই বকুলের মা বকুলকে ছেড়ে অনেক দূরে চলে গেছে ।
বকুল তার মাকে হারিয়ে পাগলের মত হয়ে গেল । রাবেয়া বেগম বকুলকে
তাদের বাড়িতে নিয়ে আসলেন । বকুলকে তারা নিজের মেয়েও মত আদর
করতে লাগল । কয়েক দিন পরেই শ্রেয়ার জন্মদিন ছিল । তারা জন্ম দিনের ছোট
একটা আয়োজন করেছে । সবাই কাজে ব্যাস্ত আর কিছুক্ষন পরেই
কেক কাটবে শ্রেয়া । কিন্ত তপুকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না । হটাৎ
বকুলের চোখ গেল রাস্তার দিকে তপুর লাল বলটা রাস্তা মাঝখানে তপু
সেটা নিতে রাস্তা মাঝে গিয়েছে কোন কিছু চিন্তা না করে বকুল
রাস্তার দিকে দৌড় দিল । এক ধাক্কায় তপুকে রাস্তার অপর পাশে ফেলে দিল । আর নিজের প্রানটা দিয়ে দিলে একটা ট্রাক এসে বকুলকে
পিষে রেখে গেল । সবাই বুজতে পারল বকুর মারা গেছে শ্রেয়া পাগলের
মত অর্তনাদ করতে লাগল । পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেল বকুল ।
বকুল কে বকুল গাছের নিচেই সামধীস্থ করা হল । আজো পুরো
পরিবার বকুলের জন্য দোয়া করে আর শ্রেয়া প্রতি মহূর্ত ভাবে মানুষ
এভাবে মরে যায় কেন ??? আজো সে এই প্রশ্নের উত্তর খোজায় ব্যাস্ত
মানুষ এভাবে মরে যায় কেন ??? কেন ? কেন
? কেন ?????
Read More

Monday, 2 November 2015

Unknown

ভালোবাসার গল্প : অাবেগী ভালবাসা

  Unknown      Monday, 2 November 2015     বাংলা গল্প      No comments   

দূর ছাতা! আজকেও মনে হয় ক্লাসটা
মিস হলো!
ক্লাসটা আর ইকটু দেরি করে শুরু হলে কি
এমন
ক্ষতি হতো..... এসব কথা ভাবতে
ভাবতেই
রিক্সাওয়ালাকে তাগাদা দিতে
থাকে
ইরা। "মামা ইকটু তাড়াতাড়ি চালান
না,
দেরি হয়ে যাচ্ছে"। রিক্সাওয়ালা
মামা
পেছন ফিরে ইরার দিকে তাকিয়ে
একটা
শুকনো হাসি দিয়ে বলল, "যাইতাছিই
তো....
আমার রিস্কা তো আর প্লেন না যে
উড়াইয়া
লইয়া যামু"। উত্তরটা পছন্দ হলোনা ইরার।
মেজাজটা চড়ে গেলো।
ইরার ইচ্ছা করছে যে এই মুহুরতে রিক্সা
থেকে
নেমে পারলে পায়ে হেটে যায়।
কিন্তু ইরা
তা করলো না। চুপচাপ বসে রইলো।
.
ইরা গ্রামের মেয়ে। অত্যন্ত সহজ-সরল ও
খুবই
মেধাবী ছাত্রী। এইচ.এস.সি পরীক্কা
শেষে
ঢাকায় ভরতি কোচিং করতে আসে।
প্রাইমেটস নামে একটি নামকরা
মেডিকেল
ভরতি কোচিং এ ভরতি হয়। তার লক্ষ
একটাই আর
তা হচ্ছে ডাক্তার হউয়া। ইরার মা
এস.এস.সি
পরীক্ষার সময় মারা যান। মার ইচ্ছা
ছিলো
তার মেয়ে ভাক্তার হবে। মার ইচ্ছা
পূরণের
জন্যই ইরার শহরে আসা।
.
কোচিং এ ইরা বরাবরই প্রথম হয়। সেজন্য
নিশ্চিত চান্স পাবার সম্ভাবনাময়
ছাত্রী
হিসেবেই সে বিবেচিত ছিলো।
কোচিং এর স্যাররা তার প্রতি
এক্সট্রা
কেয়ার নিতো। এনাদের মদ্ধে এনামুল
স্যার
ইরার ইকটু বেশিই কেয়ার নিতো। তবে
তার
অতিরিক্ত কেয়ার নেউয়াটা ইরার
তেমন
একটা পছন্দ ছিলো না।
.
মেডিকেলের পরীক্ষার আর ২ দিন
বাকি।
কোচিং এ লাস্ট ক্লাস। অন্যান্য সবার
মতন
ইরাও আজ সেজে এসেছে। সবুজ
পাড়িওয়ালা
নীল রং এর শাড়ীতে ওকে অপূর্ব
লাগছিল।
এনামুল স্যারও উপস্থিত ছিলেন। শেষে
সবার
কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এনামুল
স্যারের
কাছ থেকে ইরা বিদায় নিতে গেলে
স্যার
তাকে অনেক আশা দিয়ে তার উজ্জ্বল
ভবিষ্যৎ
কামনা করে বিদায় দিলেন।
.
মেডিকেলের পরীক্ষা শেষে
রেজাল্ট বের
হলো। ইরা ১৫ তম স্থান অধিকার করে।
এনামুল
স্যারকে সে তার রেজাল্ট এর খবর
জানাতে
স্যার তাকে অনেক অভিনন্দন জানান।
এরপর
স্যারের সাথে প্রায়ই ইরার কথা হতে
থাকে।
নানান সময়ে নানাভাবে এনামুল
স্যার
ইরাকে সাহায্য করে যান।
.
ওদের সম্পর্কটা ধিরে ধিরে
ভাললাগা আর এর
পর ভালবাসায় রুপ নেয়। ইরার সারাটা
পৃথিবী
জুড়ে তখন শুধু এনামুল। এনামুলও পাগলের
মতন
ভালবাসতো ইরাকে।
.
একদিন ইরা এনামুলকে ফোন করে
দ্যাখা করতে
বলে। বলে যে খুবই জরুরি কথা আছে।
এনামুল ও
তাই কাজ ফেলে দ্রুত চলে আসে। ওরা
কাঁটাবনের একটা কফিসপে বসে আছে।
এমন সময়
ইরা এনামুলের হাতে হাত রেখে বলে
যে,
আমি আজ তোমাকে সত্য একটা কথা
বলবো। আজ
থেকে তিন বছর আগে আমি আমার এক দূর
সম্পর্ক
এর মামীরর বাড়িতে যাই বেড়াতে।
মামীর
বড় ছেলে আমার সমবয়সী ছিলো। নাম
রায়হান।
ওর সাথে আমার অল্প কদিনের মধ্যেই
ভালো
বন্ধুত্ব হয়ে যায়। একদিন রায়হানের
সাথে
মামীর বাড়ীর পিছনে ধানের
ক্ষেতে
বেড়াতে যাই। আমরা হাঁটতে হাঁটতে
ধানক্ষেতের গভীরে চলে যাই। হঠাত
রায়হান
আমার হাত চেপে ধরে। আমি কিছু বুঝে
উঠার
আগেই ও আমার ওড়না দিয়ে আমার মুখ
বেঁধে
ফেলে। জোর করে আমাকে অপদস্থ
করে। আমার
সম্ভ্রম কেড়ে নেয়। লোকলজ্জার
কারনে আমি
কাউকেই কিছু না বলে চলে আসি।
বিশ্বাস
করো এনামুল, এতে আমার কোন দোষ
ছিলোনা।
আমি তোমাকে হারানোর ভয়ে
এতদিন কিছু
বলিনি। কিন্তু তোমাকে আমি
ঠকাতে
পারবোনা। তাই সত্যটা বললাম। এখন
তুমিই
সিদ্ধান্ত নাও যে তুমি কি করবে।
কথাগুলো বলে ইরা ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু
করলো।
.
এনামুল আস্তে করে ইরার হাতটা ওর
হাতের
উপর থেকে সরিয়ে নিলো। বললো যে,
ইরা
আমি তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু
তোমার
ভাগ্যের জন্য হোক আরর যে কারনেই
হোক তুমি
আমার চোখে এখন একজন চরিত্রহীনা
নারী।
তোমার মত একজন চরিত্রহীনা
মেয়েকে আমি
কখনোই বিয়ে করতে পারবো না। তুমি
আমাকে ক্ষমা করে দিও। কথাগুলি বলে
এনামুল
চলে যায়। ইরা পিছন থেকে নিশপলক
দৃষ্টিতে
চেয়ে থাকে। তার চোখ থেকে
অবিরত
ধারায় অস্রু ঝরতে থাকে।
.
কিছুদিন পরে এনামুলের ফনে একটা
মেসেজ
আসে। ইরা লিখেছে...
তোমাকে সেদিন আমি যে ঘটনাটা
বলেছিলাম সেটা তোমাকে পরীক্ষা
করার
জন্য বলেছিলাম। আমার জীবনে এমন
কোনো
ঘটনা ঘটেনি। আমি দেখতে
চেয়েছিলাম যে
তোমার ভালবাসার গাড়ত্ব কতটুকু।
তোমার কাছ
থেকে আমি বাস্তবতার শিক্ষা
নিলাম। তুমি
ভাল থেকো। ভালো কোনো মেয়ে
দেখে
বিয়ে করো।
খুদা হাফিয।
এনামুল মেসেজটা পড়ে নিশপলক শুধু
চেয়ে
থাকে আর নিজের ভুলের অনুসচনা
করতে
থাকে। কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেরি
হয়ে
গিয়েছে.....।
Read More

Sunday, 1 November 2015

Unknown

গোপাল ভাড়ের মজার গল্প

  Unknown      Sunday, 1 November 2015     বাংলা গল্প      No comments   



গ্রাম বাংলার গল্পে, কিচ্ছা কাহিনীতে গোপাল ভাঁড়ের গল্প প্রায়শই শোনা যায়। আমি নিজেও গোপাল ভাঁড়ের গল্প শুনেই বড় হয়েছি। পাঠকদের জন্য গোপাল ভাড়ের কয়েকটি মজার গল্পঃ

পরিচয়ঃ কৃষ্ণনগরের উত্তর দিকে ঘুর্নি নামের এক গ্রামে গোপাল ভাঁড়ের ন্ম। নয় বছর বয়সে তাঁর বাবা মারা যান। গরীব বলে লেখাপড়া করার সুযোগ হয়নি। কিন্তু অল্পশিক্ষা আর তাঁর নিজের অসীম বুদ্ধি ও প্রতিভার গুনেই তিনি আজও বাচ্চা বুড়ো সকলের মনে রয়ে গেছেন।
নদীয়ার সম্রাট মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র নানা লোকের মুখে গোপালের রসিকতা ও বুদ্ধিসত্তার কথা শুনে তাঁকে রাজসভায় স্থান দিয়েছিলেন। সেই থেকে গোপালের পরিচিতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
কথায় বলে নাপিতরা ধূর্ত হয়। গোপালরা জাতিতে নাপিত ছিলেন। গোপাল অসম্ভব ধূর্ত ছিলেন কিন্তু তাঁকে কখনোই নাপিত বলা চলে না। তাঁর অসম্ভব বুদ্ধিমত্তা তকে শ্রেষ্ঠ ভাঁড় রূপে পরিচিতি দিয়েছে। তাই তিনি গোপাল ভাঁড়।

জোঁকসঃ
১। নবাবদের খেয়ালের অন্ত নেই। একবার নবাবের খেয়াল হলো- মাটির নীচে কি আছে তা জ্যোতিষী পণ্ডিত দ্বারা গণনা করিয়ে নিতে হবে। আর গণনা সত্য কি মিথ্যা তা তো সঙ্গে সঙ্গে কিছু মাটি খুঁড়েই বোঝা যাবে।
মাটির নীচে কি আছে সঠিকভাবে বলে দিতে পারলে- নবাব প্রত্যেক পণ্ডিতকে এক হাজার আশরফি করে পুরস্কার দেবেন। না বলতে পারলে আজীবন কারাবাস।
মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র কিছু দরিদ্র জ্যোতিষী পণ্ডিতকে নবাব-দরবারে পাঠিয়েছিলেন- তারা কেউ মাটির নীচে কি আছে বলতে না পারায় কারাগারে রয়েছে। এমন খবর পেয়ে স্বভাবতঃই রাজা কৃষ্ণচন্দ্র বিষণ্ণ মুখে বসেছিলেন, তিনি ভাবছিলেন একমাত্র তাঁরই দোষে এতগুলো ব্রাহ্মণ পণ্ডিতকে নবাবের কারাগারে পচে মরতে হবে।
সদাহাস্যময় গোপাল মহারাজের ঐ ভাব দেখে বলল- মহারাজ, অমন গোমরামুখ করে বসে আছেন কেন?
মহারাজ গোপালের কাছে সব ঘটনা বলেলেন। গোপাল শুনে বলল- এর জন্য ভাবনা কি? আপনি নবাবের কাছে একটি চিঠি দিন যে, একজন বড় জ্যোতিষী পাঠালাম, যিনি অনায়াসে মাটির নীচে কি আছে গণনা করে বলে দিতে পারেন।
মহারাজ অবাক হয়ে বললেন- গোপাল, তুমি গণনা করবে?
-কি করব জানি না। তবে নিজেও বেঁচে আসব, আর দরিদ্র ব্রাহ্মণ পণ্ডিতগণকে নবাবের কারাগার থেকে মুক্ত করে আনবো, তাছাড়া আপনার সম্মানও অক্ষুণ্ণ রাখব।
মন্ত্রী বললেন-এ অসম্ভব।
গোপাল বলল-আপনারা আমার ওপর আস্থা রাখতে পারেন। আমি সহজেই কার্যসিদ্ধ হয়ে ফিরে আসব।
মহারাজ বললেন- তুমি যদি দরিদ্র জ্যোতিষী পণ্ডিতদের নবাবের কারাগার থেকে মুক্ত করে আনতে পার- আমি তোমাকে হাজার টাকা পুরস্কার দেব।
গোপাল বাড়ি ফিরে গিয়ে ভাঙা খাটের একটা ভাঙা পায়াকে চৌদ্দ পর্দা শালুর কাপড় দিয়ে বেশ ভালভাবে জড়িয়ে নিল। গরদের কাপড়, গরদের চাদর, কাঁধে নামাবলী, মাথায় লম্বা টিকি ঝুলিয়ে এবং চৌদ্দ পর্দা কাপড়ে জড়ানো খাটের পায়াখানা হাতে নিয়ে নবাব-দরবারে গিয়ে উপস্থিত হ’লো।
নবাবকে যথোচিত সেলাম জানিয়ে বলল- খোদাবন্দ, আমাকে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র আপনার দরবারে পাঠিয়েছেন। মাটির নীচে কি আছে- আমি তা অনায়াসেই গণনা করে বলে দিতে পারি।
গোপালের কথা শুনে নবাব খুব সন্তুষ্ট হয়ে বললেন- আপনার চেহারা দেখেই বুঝতে পেরেছি- আপনি একজন মহান পণ্ডিত। আপনি আসন গ্রহন করুন এবং একটু বিশ্রাম করে বলুন- মাটির নীচে কি আছে।
গোপাল নির্দিষ্ট আসনে বসে- চৌদ্দ পর্দা জড়ানো খাটের পায়ার তিন পর্দা সরিয়ে মন্ত্র পড়বার ভাণ করে, নবাবকে বলল- হুজুরালি, সর্বং সারং খট্টাঙ্গ পুরাণম্। হিন্দু পণ্ডিতং ন শক্যং ভূতলগণনম্।
- পণ্ডিতমশাই, আপনার এ শ্লোকের অর্থ কি?
গোপাল মুচকি হেসে বলল- হুজুরালি, অষ্টাদশ পুরাণের সার এই খট্টাঙ্গ পুরাণ। এতে বলছে মাটির নীচে কি আছে- তা কোন হিন্দু পণ্ডিতই গণনা করে বলতে পারবে না।
গোপালের কথা শুনে নবাব বললেন- তবে কারা এরূপ গণনা করতে পারবে মহাশয়?
গোপাল বলল- সেকথাও উল্লেখ আছে নবাব সাহেব। যবন বা ম্লেচ্ছং ভূতলগনং শক্যং। হিন্দু পণ্ডিতা পৃথিবী বা তদূর্ধ্বং। অর্থাৎ যবন বা ম্লেচ্ছগণকে মরবার পরে মাটির নীচে কবর দেওয়া হয়। অতএব যবন বা ম্লেচ্ছ পণ্ডিতগণ ভূতলের নীচে কি আছে অনায়াসে গণনা করে বলে দিতে পারবে। আর যেহেতু হিন্দু পণ্ডিতগণ মরবার পর তাদের দাহ করা হয় অতএব হিন্দু পণ্ডিতগণ অনায়াসে মাটি ও উপরের আকাশে কি আছে সহজেই গণনা করে বলে দিতে পারবে। আপনি অনর্থক কতগুলো হিন্দু পণ্ডিতকে কারাগারে আটকে রেখে কষ্ট দিচ্ছেন।
গোপালের যুক্তিপূর্ণ কথা ও শাস্ত্রবচন নবাবের খুব মনঃপূত হলো, তিনি সমস্ত হিন্দু পণ্ডিতকে মুক্ত করে দিলেন এবং প্রত্যেককে একশো টাকা পুরস্কার দিয়ে বদায় দিলেন।
তারপর গোপালের হাতে পাঁচশো টাকা দিয়ে বললেন- আপনি যথার্থ কথা বলেছেন পণ্ডিতমশাই। আপনি না বললে আমি অনেক হিন্দু পণ্ডিতকে অনর্থক কষ্ট দিতুম। এই সামান্য কিছু নিন। আমি এক্ষুণি কাঠমোল্লা পণ্ডিতদের ডেকে এনে মাটির নীচে কি আছে তা গণনা করাচ্ছি।
নবাবের কাছ থেকে পাঁচশ টাকা পুরস্কার পেয়ে, খট্টাঙ্গ পুরাণখানা হাতে নিয়ে গোপাল একরকম নাচতে-নাচতে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভায় এসে উপস্থিত হলো।
নবাবের কারাগার থেকে যেসব জ্যোতিষী পণ্ডিত মুক্ত হয়েছিল- তারাও এসে সকলেই মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের সভায় উপস্থিত হলো।
গোপালের মুখে সব ঘটনা শুনে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র ও সভার সকলেই জয়ধ্বনি করে উঠল- জয় গোপালের জয়। জয় খট্টাঙ্গ পুরাণের জয়।
মহারাজ গোপালকে প্রতিশ্রুতিমত এক হাজার টাকা পুরস্কার দিয়ে বললেন- তোমার খট্টাঙ্গ পুরাণখানা একবার দেখাও তো।
গোপাল পুরস্কারের টাকা ট্যাঁকে গুঁজে খট্টাঙ্গ পুরাণের ওপরে জরানো চৌদ্দ পর্দা কাপড় সরিয়ে ফেলতেই খাটের একটি ভাঙা পায়া বেরিয়ে পড়ল। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভায় তুমুল হাসির রোল উঠল।

২। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভায় একজন লোক মাঝে মাঝেই আসত। সে লোকটা নানা ভাষায় কথা বলত। কি যে তার আসল মাতৃভাষা, কোথায় তার আসল দেশ কেউ জানতো না। সবগুলো ভাষাতেই সে সমান দক্ষ। প্রায় সবগুলো ভাষাতেই সে লিখতে পড়তে পারত। যেমন বাংলা বলত, তেমনি হিন্দী বলত, আবার ফার্সীও বলত।
মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র একদিন গোপালকে বল্লেন, 'গোপাল, লোকটা কি জাতি এবং ওর মাতৃভাষাই বা কি, তুমি যদি ঠিক ঠিক বলতে পার- আমি তোমাকে পুরস্কার দেব'।
মহারাজের কথা শুনে গোপাল বলল, 'এ আর তেমন কষ্ট কি? আমি দু’দিনের মধ্যেই ঠিক বলে দিতে পারব'।
গোপালের কথা শুনে মন্ত্রী মশায় বল্লেন, 'ওহে গোপাল, কাজটা যত সোজা ভাবছ, ততটা সোজা নয়। লোকটা তোমার থেকেও সেয়ানা। ও সহজে ধরা দেবে না'।
গোপাল বলল, 'মন্ত্রী মশাই, আমার নামও গোপাল ভাঁড়। দেখবেন, আমি লোকটির আসল পরিচয় বের করে নেব'।
পরদিন গোপাল অনেক আগেই এসে রাজসভার দ্বারে একপাশে লুকিয়ে রইল। কারন, বিশেষ কাজে ঐ দিনই ঐ লোকটার রাজসভায় আসার কথা ছিল।
কিছুক্ষণ পরেই ঐ লোকটা এল। গোপাল বেরোতে যাবার ভাণ করে-আচমকা লোকটাকে ধাক্কা দিল, লোকটা একেবারে হুমড়ি খেয়ে পড়ে বলল, 'সঁড়া অন্ধা! দিনের বেলা চোখে দেখতে পাওনা? এই বয়সেই চোখের মাথা খেয়ে বসে আছ'?
গোপাল বলল, 'গালাগাল দাও, আর যাই বল- তুমি যে উড়ে আমি বুঝতে পেরেছি। হুমড়ি খেয়ে পড়ে গিয়ে তোমার মুখ থেকে সবার আগে যে ভাষা বেরিয়েছিল, ওটা-তোমার মাতৃভাষা-তুমি বাপু উড়ে'।
লোকটা শেষ পর্যন্ত স্বীকার করল যে, সে উড়ে।
মহারাজ সন্তুষ্ট হয়ে গোপালকে একশো টাকা পুরস্কার দিলেন।

৩। ছোটবেলা গোপাল ভাঁড় কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলে বুড়োরা তাকে ক্ষেপাত আর হাসত, ‘গোপাল, এর পর তোমার পালা।’
শুনে গোপালের খুব রাগ হত। বুড়োদের কিভাবে জব্দ করা যায়, সেই পথ খুঁজতে লাগল এবং এক সময় পেয়ে গেল।
শবদাহ আর শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠানে গিয়ে ঐসব বুড়োদের বলতে লাগল, ‘এর পর তোমার পালা!’

৪। গোপাল নন্দীগ্রামে যাবে শুনে গোপালের প্রতিবেশী এক গোঁড়া বৈষ্ণব এসে গোপালকে বলল, "নন্দীগ্রামের পরম বৈষ্ণব ত্রিলোচনের ছেলে বটুকের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। তুমি যখন নন্দীগ্রামে যাচ্ছ-তখন আমার জামাইয়ের একটু খোঁজ নিও। নিন্দুকেরা নানা কথা বলে কিন্তু আমার জামাইকে তোমার খুবই ভাল লাগবে। গোঁড়া বৈষ্ণব বংশের ছেলে, ভালো না হয়ে যায় কোথায়? অনেক বেছে বেছেই তো মেয়েকে ওখানে বিয়ে দিয়েছি"।
দিন সাতেক পরে গোপাল যখন নন্দীগ্রামে থেকে ফিরে এল, সেই বুড়ো বৈষ্ণব ভদ্রলোক তখন গোপালের কাছে জামাইয়ের খোঁজ নিতে এল।
-ওহে গোপাল, আমার জামাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছে?
-দেখা হয়েছে বৈকি, আমি তো দিন সাতেক বলতে গেলে আপনার জামাইয়ের ওখানে ছিলাম।
-তাই নাকি? তবে তো ভালোভাবেই পরিচয় হয়েছে। আমার জামাইকে তোমার কেমন লাগল গোপাল?
-আপনার জামাইটি খুবই ভালো, তবে...
-তবে কি গোপাল? গোঁড়া বৈষ্ণব ওরা।
-একটু পেঁয়াজ খায় আর কি।
-বলো কি গোপাল, পেঁয়াজ খায়! ওর বাবা গোঁড়া বৈষ্ণব। বৈষ্ণবের ছেলে হয়ে পেঁয়াজ খায়?
-রোজ কি খায় তাই বলে? এই মাঝে মাঝে খায়, যখন একটু মাংস-টাংস খায়।
-কি বলছ গোপাল, আমার জামাই মাংস খায়? বৈষ্ণব বংশের ছেলে হয়ে মাংস খায়- এ যে আমি ভাবতেই পারছি না একদম।
-এতে ঘাবড়াবার কিছু নেই, রোজ কি আর মাংস খায় নাকি? এই যখন একটু টানে তখনই খায়।
-টানে মানে? সে তামাক খায় নাকি?
-না তামাক নয়।গুরুজনের সামনে তামাক খাবে কি করে? টানে মানে- যখন একটু মদ টানে। তবে আপনার জামাইয়ের বেশ জ্ঞানগম্যি আছে বৈকি। সবার সামনেই কি আর মদ টানে, লুকিয়ে লুকিয়ে টেনে আসে।
-কি বলছ গোপাল, আমার জামাই মদ খায়?
-রোজ কি আর মদ খায় নাকি? এই যেদিন একটু এদিক-ওদিক যায়, সেদিন কেবল খায়।
-এদিক-ওদিক যায় মানে?
-এই পাড়ায়-টাড়ায় যায়। বুঝলেন না- বেশ্যা পাড়ায় মেয়েছেলেরা তো মোটেই ভাল নয়, ওদের পাল্লায় পড়ে মাঝে মাঝে মদ টানতে হয়।
গোপালের কথাশুনে বৈষ্ণব ভদ্রলোক আর স্থির থাকতে পারলেন না, অস্থিরচিত্তে বাড়ি ফিরে গেলেন। তারপর আর গোপালের কাছে কখনও জামাইয়ের খোঁজ নিতে আসেননি, নিজেও জামাইবাড়িতে আর বেড়াতে যাননি।

৫। গোপাল যাচ্ছে শ্বশুরবাড়ি। মাথার ওপর গনগনে সূর্য। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে গোপাল এক গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে বসল। বেশি গরম লাগায় ফতুয়াটা খুলে পাশে রেখে একটু আয়েশ করে বসল। বসে বিশ্রাম নিতে নিতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল, নিজেই জানে না।
ঘুম যখন ভাঙল গোপাল দেখে, তার ফতুয়াটা চুরি হয়ে গেছে। হায় হায়! এখন কী হবে! খালি গায়ে তো আর শ্বশুরবাড়ি ওঠা যায় না। কী আর করা। সে হাঁটতে হাঁটতে মনে মনে বলতে লাগল, ‘হে ভগবান, রাস্তায় অন্তত ১০টি মুদ্রা যেন কুড়িয়ে পাই, তাহলে পাঁচ মুদ্রায় আমার জন্য একটা ভালো ফতুয়া কিনতে পারি। আর তোমার জন্য পাঁচটি মুদ্রা মন্দিরে দান করতে পারি···।’ আর কী আশ্চর্য! ভাবতে ভাবতেই দেখে, রাস্তার ধারে কয়েকটি মুদ্রা পড়ে আছে। খুশি হয়ে উঠল গোপাল, গুনে দেখে পাঁচটি মুদ্রা! গোপাল স্বগত বলে উঠল, ‘হে ভগবান, আমাকে তোমার বিশ্বাস হলো না, নিজের ভাগটা আগেই রেখে দিলেন।

৬। পাড়া-পড়শী অনেকের বাড়িতেই মেয়ে-জামাই বেড়াতে এসেছে দেখে, গোপালের স্ত্রী একদিন গোপালকে বলল- তুমি কি গা! জামাই আনার নাম পর্যন্ত কর না। দু’বছর হয়ে গেল, একবারটি জামাইকে আনলে না?
স্ত্রীর কথা শুনে গোপাল বলল- জামাই আনা কি চাট্টিখানি কথা! কত খরচ বলতো?
গোপালের কথা শুনে গোপালের স্ত্রী বলল- তুমি দেখছি হাড় কেপ্পন হয়ে গেলে গো। রাজবাড়ি থেকে এত টাকা-পয়সা আনছ- সে টাকা-পয়সায় ছাতা পড়ে গেল। আমি কোন কথা শুনতে চাইনে- আজকালের মধ্যে জামাই না আনলে আমি বাপের বাড়ি চলে যাব।
গোপাল ভাবল, এবার আর জামাই না এনে উপায় নেই, তাই সে বিকেল বেলায় জামাই নিয়ে ফিরল।
জামাই আসবার পরও প্রায় একমাস হ’তে চলল, জামাই শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে নড়তে-চায় না। বসে বসে এমন চর্ব্য-চূষ্য-লেহ্য-পেয় পাবে কোথায়?
জামাই শাশুড়ীকে বলল- মা, এখানে এসে আমার শরীরটা বেশ ভাল হয়েছে, ভাবছি আরও কিছুদিন থাকব।
জামাইয়ের কথা শুনে শাশুড়ী বলল- তা তোমার যতদিন ইচ্ছা থাক না। তোমার শ্বশুর তো এখন দু’হাতে টাকা আনছে। যতদিন ইচ্ছে থাক।
শাশুড়ী ও জামাইয়ের কথোপকথন শুনে গোপাল মনে মনে প্রমাদ গুনল। না, আর নয়। যেভাবেই হোক, বুদ্ধি করে জামাই বাবাজীকে তাড়াতে হবে, নইলে যে জমানো টাকা ভাঙতে হবে। জামাই পোষা না হাতী পোষা!
মনে মনে ফন্দি এঁটে সে জামাইকে বলল- বাবাজী, এ পাড়ায় ভীষণ ছিঁচকে চোরের উৎপাত। এই যে দেখছ লেবুগাছটা, এতে হাজার হাজার লেবু এলেও- আমি সময়মত দেখতে পাই না, বেচলেও বেশ পয়সা হ’তো। তুমি বাপু একটু লেবু গাছটার দিকে নজর রেখো। সব সময় নজর রাখতে হবে না, বিশেষ করে সন্ধ্যের পরে একটু নজর রেখো। বাতি নিভিয়ে দু’চারদিন গাছের দিকে নজর রাখলে নিশ্চয় চোর ধরতে পারবে।
শ্বশুরের কথা শুনে জামাই বলল- আপনি কিছু ভাববেন না, চোর আমি ধরবই।
সেদিন সন্ধ্যেবেলা গোপাল রাজবাড়ি থেকে ফিরে বাড়ির ভেতর গিয়ে বলল- ওগো, পেটটা ভাল নেই। কি রকম ভুটভুট করছে। গাছ থেকে দুটো লেবু এনে একটু লেবুর সরবৎ করে দাও তো।
ঘরে আর অন্য কোন বাতি না থাকায় গোপালের স্ত্রী অন্ধকারেই লেবু আনতে গেল। জামাই চোর ধরার অপেক্ষায় আগে থেকেই ওৎ পেতে বসেছিল। চোর ভেবে শাশুড়ীকে জাপটে ধরল।
চীৎকার চেঁচামেচি শুনে গোপাল সঙ্গে সঙ্গে বাতি নিয়ে ছুটে গেল। তখনও জামাই শাশুড়িকে জড়িয়ে ধরে আছে।
গোপাল তাই দেখে বলল- তাই তো বলি, শাশুড়ীর এত জামাই আনার ধূম কেন?
গোপালের স্ত্রী ভীষণ লজ্জা পেয়ে রান্নাঘরে চলে গেল, জামাইও ভীষণ লজ্জা পেয়ে রাতের অন্ধকারে শ্বশুরবাড়ি ত্যাগ করল। গোপাল মনের সুখে বারান্দায় বসে তামাক টানতে লাগল

৭। গোপাল একবার তার দুই বেয়াই-এর সাথে এক জায়গায় যাচ্ছিল। পথের ধারে দক্ষিণমুখো হয়ে সে প্রস্রাব করতে বসলে এক বেয়াই বলল, “আরে করেন কি, আপনি জানেন না, দিনের বেলা দক্ষিণমুখো হয়ে প্রস্রাব করতে নেই, শাস্ত্রে নিষেধ আছে যে!”
অপর বেয়াই বলল, “শুনেছি উত্তরমুখো হয়েও নাকি ওই কাজটি করতে নেই।”

গোপাল বলল, “ওসব পন্ডিতলোকদের বচন, আমি গাঁইয়া মুখ্যুসুখ্যু মানুষ, ওসব বাছবিছার আমি করি না, সব মুখেই প্রস্রাব করি। বড় বেয়াই যে মুখে বললেন সে মুখে করি আর ছোট বেয়াই যে মুখে বললেন সে মুখেও করি।”
গোপালের মুখের কথা শুনে বেয়াইদের মুখে আর কথা নেই।

৮। গোপাল একদিন পেটব্যথার যন্ত্রণায় ভীষণ কষ্ট পাচ্ছিল, সে এক ভীষণ যন্ত্রণা। যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে সে রাজসভাতেই শুয়ে পড়ে বলতে লাগস- দোহাই মা কালী! আমার পেটের যন্ত্রণা কমিয়ে দাও মা, এ যন্ত্রণা আর সহ্য করতে পারছি না। মা- মাগো, আমার যন্ত্রণা ভালো করে দাও- আমি সাতদিনের মধ্যে তোমার কাছে জোড়া পাঁঠা বলি দেব।
কিছুক্ষণ পরে গোপালের যন্ত্রণার উপশম ঘটল, সে উঠে বসে একটা পান খেয়ে বলল- পেটের যন্ত্রণা তো এমনিতেই কমে যেত, এতে আর মা কালীর কেরামতি কোথায়? তবে আর মা কালীর কাছে জোড়া পাঁঠা বলি দিতে যাব কোন্ দুঃখে?
গোপাল দিব্যি খোশ মেজাজে গল্প করতে লাগল। কিন্তু আবার কিছুক্ষণ পরে ভীষণ যন্ত্রণা শুরু হলো। গোপাল কাটা ছাগলের মতই দাপাতে দাপাতে বলল- ওমা, মা কালী, আমি কি আর তোমায় জোড়া পাঁঠা দিতাম না? আমি তো উপহাস করছিলাম। এত বোঝ মা, উপহাস বোঝ না?

৯। একবার গোপাল পাড়ার এক দোকান থেকে বাকি খেয়েছে। অনেক দিন হয়ে গেল দেনা সে শোধ করছে না। তখন মুদি রেগে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের কাছে আরজি জানাল। পাঁচ টাকা দেনা ছিল সাত টাকার দাবিতা মুদি মহারাজের কাছে নালিশ করল। গোপাল রাজার তলব পেয়ে রাজসভায় গিয়ে বলল ‘সাত টাকা নয় হুজুর, পাঁচ টাকা দেনা, আমি ক্রমে আস্তে-আস্তে শোধ করব। আমায় দয়া করে কিস্তি-বন্দী করার হুকুম দিন।’
মহারাজের তাতে আপত্তি ছিল না। কিন্তু গোল বাধলো দেনার পরিমাণ নিয়ে। পাওনাদার বলে, সাত টাকা; দেনাদার বলে পাঁচ টাকা। অবশেষে মুদির খাতা তলব করা হলো। দেখা গেল- খাতা অনুসারে সাত টাকাই দেনা দাঁড়ায় বটে! গোপাল খাতার ভেতর লেখা ভালভাবে দেখে বলল ‘হুজুর! এই যে দেখুন, কত বড় জোচ্চুরি। যে-কদিন অড়র ডাল নিয়েছি, সেই কদিনই মুদি আমার নামে ঘি-ও লিখে রেখেছে। অথচ আমি কোন দিন অড়র-ডালে ঘি খাই না। আমি গরীব মানুষ কি ঘি খেতে পারি? প্রতিদিন আমাদের কি সম্ভব অড়হরের ডাল ঘি খেতে পারা?’
মুদি বললে- ‘দেখুন হুজুর, কত বড় মিথ্যে কথা বলছে, ঘি না দিয়ে কি কেউ অড়হর ডাল রান্না করে খেতে পারে?’
মহারাজের তাই মনে হলো। মহারাজের নিজের বাড়িতেও যখনি অড়হর ডাল রান্না হয়, তখনই রাতে প্রচুর ঘি দেওয়া হয়। কাজেই গোপাল নিশ্চয়ই মিথ্যা কথা বলছে। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র সাত টাকারই ডিক্রি দিলেন মুদিকে। কি আর করবে! গোপাল ডিক্রি অনুযায়ী মুদির ডিক্রি শোধ করল বাধ্য হয়ে।
গোপালের কিন্তু মুদি যে ঠকিয়ে টাকা নিয়েছে, এ রাগ তার কিছুতেই গেল না। সে এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ভাবল।
মনে মনে সে ফন্দী আঁটতে লাগল- কী করে এই মুদি জব্দ করা যায়। হঠাত একদিন সে একটা বুদ্ধি বের করল। সেবছরে গোপালের বাড়িতে আখের চাষ খুব ভাল হয়েছিল। সে কিছু আখের গুড় লোকের দ্বারা তৈরী করিয়ে নিল।
তারপর বেশ কিছুদিন সে এমনভাবে আলাপ-ব্যবহার করতে লাগল মুদির সঙ্গে যে মুদির ভুলক্রমেও সন্দেহ হল না তাকে জব্দ করার ফন্দী করছে গোপাল।
গোপাল একদিন কথা প্রসঙ্গে মুদিকে বলল, সে কিছু আখের গুড় সস্তায় বিক্রি করতে চায়। সামান্য লাভ রেখেই বেচে দেবে। টাকার বিশেষ প্রয়োজন। সস্তা দামের কথা শুনে মুদি কিছু গুড় কিনতে চাইল। গোপাল গুড় বিক্রি করতে রাজি হলো যে নগদে ক্রয় করতে হবে। মুদি নগদ টাকা দিয়ে পিপে ভর্তি গুড় সস্তায় কিনে গরুর গাড়ি করে আনন্দে বাড়ি নিয়ে গেল।
কয়েকদিন পরে পিপে খুলে সে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল। কি সর্বনাশ! সামান্য গুড় উপর দিকটায় আসে বটে, কিন্তু তার তলায় সে সবই বালি মেশানো ইট সুরকির কুচি দানা। হায় হায় করে মুদি কাঁদতে লাগল এবং মনে মনে রাগ হল।
গোপাল গুড় বিক্রি করে নগদ টাকা পেয়ে ছেলে, মেয়ে, বৌ নিয়ে বেশ কয়েকদিন বাইরে বেড়াতে গেল মনের আনন্দে।
মুদি কিছুদিন পর অনেক খোঁজাখুঁজি করে গোপালকে বার করল। গুড়ের তলায় বালি সুরকির কথা বলে চোটপাট শুরু করতেই গোপাল বলল, ‘চটো ক্যান মুদি ভাই? ঘি ছাড়া অড়হর ডাল ব্যাচন যায় না, আর আমি বালি-সুরকি ছাড়া সরেস দানা গুড় বেচুম্‌ ক্যামনে?’ এই বলে হেসে হেসে গড়িয়ে পড়ল মাটিতে।

১০। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের দরবারে রাজবৈদ্য নিয়োগ দেওয়া হবে। দেশদেশান্তর থেকে চিকিত্সকেরা এলেন যোগ দিতে। গোপালকে রাজা দায়িত্ব দিলেন চিকিত্সক নির্বাচনের। গোপাল খুশিমনে বসলেন তাঁদের মেধা পরীক্ষায়।
—আপনার চিকিত্সালয়ের আশপাশে ভূতের উপদ্রব আছে?
—জি আছে। প্রচুর ভূত। ওদের অত্যাচারে ঠিকমতো চিকিত্সা পর্যন্ত করতে পারি না। দিন দিন ওদের সংখ্যা বাড়ছেই।
এবার দ্বিতীয় চিকিত্সকের পালা।
—আপনার চিকিত্সালয়ের আশপাশে ভূতের উপদ্রব কেমন?
—আশ্চর্য, আপনি জানলেন কীভাবে! ওদের জ্বালায় আমি অস্থির। দিন দিন ওদের সংখ্যা বাড়ছেই।
এভাবে দেখা গেল সবার চিকিত্সালয়ের আশপাশেই ভূতের উপদ্রব আছে। একজনকে শুধু পাওয়া গেল, যাঁর কোনো ভূতসংক্রান্ত ঝামেলা নেই। গোপাল তাঁকে রাজবৈদ্য নিয়োগ দিলেন। পরে দেখা গেল এই চিকিত্সকই সেরা। রাজাও খুশি। একদিন রাজা ধরলেন গোপালকে। গোপাল বললেন, ‘আজ্ঞে মহারাজ, দেখুন, সবার চিকিত্সাকেন্দ্রের আশপাশে ভূতের উপদ্রব শুধু বাড়ছে আর বাড়ছে। এর অর্থ হলো, তাঁদের রোগী মরে আর ভূতের সংখ্যা বাড়ে…আর যাঁকে নিলাম, তাঁর ওখানে কোনো ভূতের উপদ্রব নেই…অর্থাত্ তাঁর রোগীএকজনও মরে না

১১। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র সব সভাসদদের সামনে গোপালকে জব্দ করার উদ্দেশ্যে বলছেন, ‘বুঝলে গোপাল, আমার সাথে তোমার চেহারার কিন্তু দারুণ মিল! তা বাবার শাসনামলে তোমার মা কি এদিকে আসতেন-টাসতেন নাকি?’

গদগদ হয়ে গোপাল বলে, ‘আজ্ঞে না রাজামশাই! তবে মা না এলেও বাবা কিন্তু প্রায়শই আসতেন!’

১২। গোপাল একবার গ্রামের মোড়ল হয়েছিল। তো একদিন ভোরবেলায় এক লোক এসে ডাকতে লাগল, ‘গোপাল? গোপাল?’ গোপাল ভাঁড় কোনো উত্তর না দিয়ে শুয়েই রইল। এবার লোকটা চিৎকার করে ডাকতে লাগল, ‘মোড়ল সাহেব, মোড়ল সাহেব।’ এবারও গোপাল কোনো কথা না বলে মটকা মেরে শুয়ে রইল। গোপালের বউ ছুটে এসে বলল, ‘কী ব্যাপার, লোকটা মোড়ল সাহেব মোড়ল সাহেব বলে চেঁচিয়ে পড়া মাত করছে, তুমি কিছুই বলছ না!’ গোপাল কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, ‘আহা, ডাকুক না কিছুক্ষণ, পাড়ার লোকজন জানুক আমি মোড়ল হয়েছি।’

১৩। একজন বৈরাগী গোপালকে চিনত না। সে গোপালের সামনে এসে বলল, “ঈশ্বরের সেবার জন্য আপনি কিছু চাঁদা দেবেন?”
গোপাল কিছু না বলে বৈরাগীকে একটা টাকা দিল।
টাকাটা পেয়ে বৈরাগী খুশি হয়ে পথ হাঁটতে লাগল। কিছুটা যেতেই গোপাল তাকে ডাকল, “ও বৈরাগী, একবারটি আমার কাছে এসো।”
বৈরাগী খুশিমনে তার কাছে আসলে গোপাল বলল, “তোমার বয়স কত?”
“আঠারো আজ্ঞে।”
“আমার বয়স পঞ্চান্ন।”
“তাতে কি হল?”
“এইমাত্র ঈশ্বরের সেবার জন্য যে একটা টাকা নিয়েছ সেটা ফেরত দাও, কারণ তোমার আগেই আমি স্বর্গে যাব এবং ঈশ্বরের সেবার সুবর্ণ সুযোগ পাব।”

১৪। গোপালের তখন বয়স হয়েছে। চোখে ভালো দেখতে পারে না। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র বললেন, কী গোপাল, গতকাল আসনি কেন?
—আজ্ঞে চোখে সমস্যা হয়েছে। সবকিছু দুটো দেখি। কাল এসেছিলাম। এসে দেখি দুটো দরবার। কোনটায় ঢুকব, ভাবতে ভাবতেই…।
—এ তো তোমার জন্য ভালোই হলো। তুমি বড়লোক হয়ে গেলে। আগে দেখতে তোমার একটা বলদ, এখন দেখবে দুটো বলদ।
—ঠিকই বলেছেন মহারাজ। আগে দেখতাম আপনার দুটো পা, এখন দেখছি চারটা পা…ঠিক আমার বলদের মতোই!

১৫।  বেড়াতে বেরিয়ে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র একবার গোপালের হাত চেপে ধরে আস্তে আস্তে মোচড়াতে লাগলেন।
গোপাল: আমার হাত নির্দোষ, ওকে রেহাই দিন।
রাজা: জোর করে ছাড়িয়ে নাও।
গোপাল: সেটা বেয়াদবি হবে।
রাজা: উহু, তাহলে হাত ছাড়ব না।
গোপাল তখন যে রোগের যে দাওয়াই বলে রাম নাম জপতে থাকলেন।
রাজা: এতে কি আর কাজ হবে? দাওয়াই কোথায়?
গোপাল: রাম নাম জপাই তো মোক্ষম দাওয়াই।
রাজা: মানে?
গোপাল: পিতামহ, প্রপিতামহের আমল থেকে শুনে আসছি, রাম নাম জপলে ভূত ছাড়ে।
রাজা গোপালের হাত ছেড়ে দিলেন সঙ্গে সঙ্গে।

১৬।  গোপাল যাচ্ছে শ্বশুরবাড়ি। মাথার ওপর গনগনে সূর্য। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে গোপাল এক গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে বসল। বেশি গরম লাগায় ফতুয়াটা খুলে পাশে রেখে একটু আয়েশ করে বসল। বসে বিশ্রাম নিতে নিতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল, নিজেই জানে না।
ঘুম যখন ভাঙল গোপাল দেখে, তার ফতুয়াটা চুরি হয়ে গেছে। হায় হায়! এখন কী হবে! খালি গায়ে তো আর শ্বশুরবাড়ি ওঠা যায় না। কী আর করা। সে হাঁটতে হাঁটতে মনে মনে বলতে লাগল, ‘হে ভগবান, রাস্তায় অন্তত ১০টি মুদ্রা যেন কুড়িয়ে পাই, তাহলে পাঁচ মুদ্রায় আমার জন্য একটা ভালো ফতুয়া কিনতে পারি। আর তোমার জন্য পাঁচটি মুদ্রা মন্দিরে দান করতে পারি···।’ আর কী আশ্চর্য! ভাবতে ভাবতেই দেখে, রাস্তার ধারে কয়েকটি মুদ্রা পড়ে আছে। খুশি হয়ে উঠল গোপাল, গুনে দেখে পাঁচটি মুদ্রা! গোপাল স্বগত বলে উঠল, ‘হে ভগবান, আমাকে তোমার বিশ্বাস হলো না, নিজের ভাগটা আগেই রেখে দিলে?

১৭।  গোপাল একবার তার দুই বেয়াই-এর সাথে এক জায়গায় যাচ্ছিল। পথের ধারে দক্ষিণমুখো হয়ে সে প্রস্রাব করতে বসলে এক বেয়াই বলল, “আরে করেন কি, আপনি জানেন না, দিনের বেলা দক্ষিণমুখো হয়ে প্রস্রাব করতে নেই, শাস্ত্রে নিষেধ আছে যে!”
অপর বেয়াই বলল, “শুনেছি উত্তরমুখো হয়েও নাকি ওই কাজটি করতে নেই।”

গোপাল বলল, “ওসব পন্ডিতলোকদের বচন, আমি গাঁইয়া মুখ্যুসুখ্যু মানুষ, ওসব বাছবিছার আমি করি না, সব মুখেই প্রস্রাব করি। বড় বেয়াই যে মুখে বললেন সে মুখে করি আর ছোট বেয়াই যে মুখে বললেন সে মুখেও করি।”
গোপালের মুখের কথা শুনে বেয়াইদের মুখে আর কথা নেই।

১৮।  রাজা কৃষ্ণচন্দ্র সব সভাসদদের সামনে গোপালকে জব্দ করার উদ্দেশ্যে বলছেন, ‘বুঝলে গোপাল, আমার সাথে তোমার চেহারার কিন্তু দারুণ মিল! তা বাবার শাসনামলে তোমার মা কি এদিকে আসতেন-টাসতেন নাকি?’

গদগদ হয়ে গোপাল বলে, ‘আজ্ঞে না রাজামশাই! তবে মা না এলেও বাবা কিন্তু প্রায়শই আসতেন!’

১৯।  গোপাল একবার গ্রামের মোড়ল হয়েছিল। তো একদিন ভোরবেলায় এক লোক এসে ডাকতে লাগল, ‘গোপাল? গোপাল?’ গোপাল ভাঁড় কোনো উত্তর না দিয়ে শুয়েই রইল। এবার লোকটা চিৎকার করে ডাকতে লাগল, ‘মোড়ল সাহেব, মোড়ল সাহেব।’ এবারও গোপাল কোনো কথা না বলে মটকা মেরে শুয়ে রইল। গোপালের বউ ছুটে এসে বলল, ‘কী ব্যাপার, লোকটা মোড়ল সাহেব মোড়ল সাহেব বলে চেঁচিয়ে পড়া মাত করছে, তুমি কিছুই বলছ না!’ গোপাল কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, ‘আহা, ডাকুক না কিছুক্ষণ, পাড়ার লোকজন জানুক আমি মোড়ল হয়েছি ।’
Read More

Saturday, 31 October 2015

Unknown

বাংলা গল্প : "স্বপ্ন"

  Unknown      Saturday, 31 October 2015     বাংলা গল্প      No comments   


.
টিনের চাল।দু'একটা ফুঁটো থাকলেও সমস্যা নেই।বর্ষার জল পরবে না হয় কয়েক ফোঁটা।বর্ষার দিনে বৃষ্টির শব্দে সারারাত ঘুম হবেনা।ভোরে বাড়ির সামনে গিয়ে দেখব উঠোনে পানি জমে গেছে।আশেপাশে কয়েক টা ব্যাঙ ফিসফাস করতে থাকবে।
.
বাড়ির পেছনে থাকবে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজের সমারোহ।জানালা খুলে তাকালেই সবুজ আর সবুজ।মনে হবে এই সবুজের শুরু আছে শেষ নেই।সবুজের সমুদ্র যেন।
.
বাড়ির সামনের দিকের রাস্তার দুপাশে থাকবে অনেক গাছ।গাছের ছায়ায় ঢেকে থাকবে আমাদের বাড়ির চতুর্দিক।আরো একটু সামনে থাকবে ছোট,কিন্তু গভীর পুকুর।পুকুর পাড়ের একধারে বাঁশ-বাগান।তারও একপাশে মাচা তৈরি থাকবে।মাচার পাশেই তাল-পাতার পাটি বিছানো থাকবে।তুমি চাইলে আমার সাথে মাচায় বসবে,অথবা পাটিতে।জ্যোছনা-রাতে হাতে হাত রেখে একসাথে বসে থাকব।
.
প্রচণ্ড রোদে এখানে বসে ঠাণ্ডা বাতাসে সময় পার করব;এখানে বর্ষা-জলে একসাথে ভিজব,তীব্র শীতে রোদ পোহাব...বসন্তের দখিনা বাতাসে তোমার চুল,আর শাড়ির আঁচল উড়বে।আমি অপলোক চেয়ে রইব।
.....
.....
বাসর রাতে নতুন বউয়ের পাশে বসে নিজের কাব্যিক মনের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে নাফিস।এদিকে তাসনিয়া যে বিরক্ত হচ্ছে তা সে ঘূণাক্ষরেও টের পাচ্ছে না।তার ধারণা তাসনিয়া মুগ্ধ হয়ে তার স্বপ্ন-বিলাসী মনের প্রলাপ শুনে বিস্মিত হয়ে তার সাথে আলাপ করছে।
.
--আপনার মনে এত স্বপ্ন?আপনি তো পুরাই কবি মানুষ!
তাসনিয়ার আনন্দে চিকচিক করতে থাকা
চোখের দিকে কল্পনায় তাকিয়ে শিহরিত হয় নাফিস।
--হ্যা গো।আমি একজন স্বপ্ন বিলাসী মানুষ।
--আমি তো আপনার কল্পনার রাজ্যেই হারিয়ে গিয়েছিলাম।
--যাবেই তো।কি সুন্দর করেই বর্ণনা দিলাম।
--হুম!.....
............
............
--ঘুমাবেন না?
.
কল্পণা ভেস্তে গেল নাফিসের।
.
--কি বললা?
--ঘুমাবেন না?
একটু লজ্জা পেল নাফিস।কি ভাবছিল।আর.....
--ঘুমাব তো বটেই।আমার কথা এতক্ষণ শোনো নি?
--শুনেছি তো।
--ভাল লাগেনি?
--হুম লেগেছে।এত ভাল লেগেছে যে ভাল লাগার চোটে খুব ঘুম পাচ্ছে!!
একটু মন খারাপ হয় নাফিসের।তাসনিয়া যে ওর কথা গুরুত্বের সাথে নেয় নি তা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছে সে।
--আচ্ছা ঘুমাও।
--আপনি ঘুমাবেন না?
--না।
--কেন ঐ ভাংগা ফুঁটো-ওয়ালা টিনের ঘরে যাবেন?হি..হি...হি...
আরে আজিব।এই নতুন বধু দেখা যাচ্ছে খুব দুষ্ট একটা মেয়ে।নতুন বরের কল্পণা নিয়ে মজা করছে।
--তুমি ঠাট্টা করছ?
--আরে না।শোনেন...টিনের চালের ফুঁটোগুলো সারানোর ব্যবস্থা করেন।বৃষ্টিতে ভিজলে ঠান্ডা লাগতে পারে।নিউমোনিয়া হয়ে গেলে বিপদ।(হাসি থামানোর চেষ্টা করে তাসনিয়া।)
--হোয়াট?তুমি ঠাট্টা করছ?আমি কি বাচ্চা-শিশু?আমার সাথে মজা নেও?মা কার সাথে বিয়ে দিল?এ কেমন মেয়ে?আম্মু....আম্মু....
--চুপ।গাঁধা।বাসর রাতে চিল্লায়ে মা'রে ডাকে।আহাম্মক।
আপনি বাচ্চা নন তো কি?রাত শেষ হয়ে যাচ্ছে আর উনি বসে বসে স্বপ্ন দেখছেন আবার ম্যাঁ ম্যাঁ করছে!!!
ছাগল...আবুল কোথাকার!!!
.
মিস্টি ঝাড়ি খেয়ে হুশ হয় নাফিসের।আরে স্বপ্ন বলে বলে তো রাত পার হয়ে গেল।একটু লজ্জাও পেল।
.
তাসনিয়ার দিকে হাসিহাসি মুখ করে,ওর হাত ধরে বলল,
--আচ্ছা টিনের ফুঁটোগুলো ঠিক করে নেব।এবার শোন একটা কথা...
.
--সরেন বেয়াকুব।
--তুমি খুব বেয়াদব বউ।তোমারে বশ মানাতে খুব ঝামেলা হবে!
--আপনার মত আবুল আমারে বশ করতে পারবেও না!(খিলখিল করে হেসে ওঠে তাসনিয়া।)
--আম্মু বলেছিল তুমি নাকি খুব লক্ষ্ণী মেয়ে।
--হি..হি....হি
(হাসি থামিয়ে কপট রেগে)
--কি?আমি অলক্ষ্ণী মেয়ে??তুই আবুল,মফিস,বেকুব...যা ভাগ...এই ধরবি না...এই খবরদার.....আম্মুরে ডাক দিব কিন্তু...এই....এই....
.
.
রাত পার হয়।নতুন এক সম্পর্কের সূচনা হয়।যে জীবনে নব-দম্পতির প্রেম-প্রণয়-অভিমান আর ভালবাসা মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে।এগিয়ে আসবে স্বপ্ন।টিনের চালে বৃষ্টির টুপটাপ পাগলকরা শব্দ।জ্যোছনা-রাতে একসাথে হাতে হাত রেখে বসে থাকা,বৃষ্টির জলে একসাথে ভেজা,তীব্র শীতে উষ্ণতা দেয়া,বসন্তের উন্মাদ সমীর একসাথে অনুভব করা।স্বপ্ন-পূরণ হবেই।
.
Read More
Older Posts → Home

Blog Archive

  • ▼  2016 (5)
    • ▼  August (5)
      • যানজট নিয়ন্ত্রণে থাকবে ১ হাজার রোভার স্কাউট’ ...
      • সুচির উদ্যোগে বিদ্রোহীদের সাথে আলোচনায় মায়ানমার
      • মিটিংয়ে ঘুমানোই কর্মকর্তাকে খুন!
      • ৪ সেপ্টেম্বর ট্যানারি শ্রমিকদের কর্মবিরতি
      • শফিক রেহমানকে তিন মাসের জামিন
  • ►  2015 (154)
    • ►  December (16)
    • ►  November (127)
    • ►  October (11)
  • ►  2014 (1)
    • ►  November (1)

Popular Posts

  • কীভাবে হবেন ফেসবুক সেলিব্রেটি? টিপস এবং দুই নম্বরী উপায় সমগ্র
    ফেসবুক সেলিব্রেটি এখন সময়ের আলোচিত বিষয়। সেদিন একটা স্ট্যাটাসে জিজ্ঞেস করেছিলাম আমরা বাঙালী জাতি তো খালি ভাগই হই। কে জানি বলেছিল বাঙালী ...
  • যারা ফেসবুক পেজ ব্যবহার করেন তাদের জন্য পেজ ম্যানেজার অ্যাপস
    আশা করি সবাই ভাল আছেন। আজ আপনাদের কে একটি নতুন অ্যাপস এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিব। ফেসবুকের কোনো পেজের অ্যাডমিন মানেই সব সময় সেই পে...
  • গুগলের ১০টি অজানা সার্ভিস
    আপনি একজন কম্পিউটার ব্যবহারকারী বা স্মার্টফোন ব্যবহারকারী হলে নিশ্চয়ই আপনি নেট ব্যবহার করে থাকেন। আর ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন কিন্তু গুগ...
  • গোপাল ভাড়ের মজার গল্প
    গ্রাম বাংলার গল্পে, কিচ্ছা কাহিনীতে গোপাল ভাঁড়ের গল্প প্রায়শই শোনা যায়। আমি নিজেও গোপাল ভাঁড়ের গল্প শুনেই বড় হয়েছি। পাঠকদের জন্য গোপাল...
  • Radio Today
    Radio Today FM 89.6 the first and no. 1 private radio, first went on air in May 2006 in Dhaka. From 15th Oct 2006 it expanded coverage to ...
  • WIFI এর পাসওয়ার্ড জেনে নিন একদম সহজে
    একথা আপনাকে মানতেই হবে যে এন্ড্রয়েড দিয়ে WIFI এর পাসওয়ার্ড আসলেই হ্যাক করা যায়না!! এর জন্য অনেক এপ,টিঊটোরিয়াল থাকলেও একটাও ...
  • শফিক রেহমানকে তিন মাসের জামিন
    শফিক রেহমানকে তিন মাসের জামিন অনলাইন ডেস্ক   লিড নিউজ আপডেট: ০১:১২:৪০ PM, বুধবার, আগস্ট ৩১, ২০১৬ প্রধানমন্ত্রী শেখ হ...
  • রাজশাহীতে ‘গ্যাস সিলিন্ডার’ বিস্ফোরণে আহত ৪
    রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে আয়োজনের সময় বেলুনে গ্যাস ভরতে গিয়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে ৪ জন আহত হয়েছে। শনিবার সকাল ৮...
  • মিটিংয়ে ঘুমানোই কর্মকর্তাকে খুন!
    মিটিংয়ে ঘুমানোই কর্মকর্তাকে খুন! উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের কথা এখন সারা বিশ্ব জানে। প্রতিদিন তার অপকীর্তির কথা স...
  • বাংলা , হিন্দি ও ইংলিশ গান ডাউনলোড করার ৩০ টি ওয়েব সাইট
    আজ আমি আপনাদের ওয়েব সাইট এর লিঙ্ক দেব , যা থেকে সম্পুন ফ্রী তে আপনার পছন্দের গান ডাউনলোড করতে পারবেন। নিম্নে  ফ্রীতে বাংলা , হিন্দি ও ইং...

Labels

  • Online Radio
  • অন্যন্য
  • অফার
  • ই-বুক
  • ইসলাম শিক্ষা
  • উইন্ডোজ
  • এন্ডয়েড
  • ওয়ায়ার্ডপ্রেস
  • কম্পিউটার
  • খেলাধুলা
  • গুগল
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন
  • জোকস
  • টিপস-ট্রিকস
  • ডাউনলোড
  • প্রযুক্তি কথন
  • প্রোগ্রামিং
  • ফেসবুক
  • ফ্রিল্যান্সার
  • বাংলা কবিতা
  • বাংলা গল্প
  • বিনেদন
  • ব্লগার
  • ভিন্ন স্বাদের খবর
  • লেখাপড়া
  • সফটওয়ার
  • সাস্থ কথা

Facebook Fan

Powered by: Blogger
About Us | Contact Us | Privacy | Sitemap | Terms Condition | Others
Copyright © Shahoreyar Mostofa All Rights Reserved |